দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুরের আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল পরিবহনকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চালগুলো কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল এমন অভিযোগে স্থানীয়রা অন্তত দুই দফায় ট্রাকসহ চাল আটক করেন। এ সময় একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হলেও তাদের ভূমিকা ছিল নীরব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে আংগারিয়া খাদ্য গুদাম থেকে একটি ট্রাকে করে সরকারি সিল সমৃদ্ধ অন্তত ৪০০ বস্তা চাল কোটাপাড়া এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল। ট্রাকটি শহরের পালং মডেল থানা সংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে সন্দেহ হলে স্থানীয় জনতা সেটি থামায়। এ সময় ট্রাকচালক ও হেলপার জানান, চালগুলো ওজনের জন্য প্রেমতলা এলাকায় নেওয়া হচ্ছিল। পরে চালানের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা সটকে পড়েন। পরবর্তীতে গুদাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে একটি চালানফরম দেখিয়ে দাবি করেন, চালগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় রুদ্রকর ইউনিয়নের ‘মানিক মাহমুদ খাদ্যবান্ধব’ ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত ২৪ মেট্রিক টনের অংশ। তবে ঘটনাস্থলেই সংশ্লিষ্ট ডিলার বোরহান উদ্দিন জানান, এ চাল তার নয় এবং এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না—এতে করে পুরো ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি পরিষ্কার করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা কেউ ঘটনাস্থলে আসেননি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ ট্রাকসহ চালগুলো থানার গেটে নিয়ে যায়। একই চালান ফরম জমা দিয়ে একটি পক্ষ পুনরায় চাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে চৌরঙ্গী এলাকায় আবারও ট্রাকটি আটক করেন স্থানীয়রা।
পালং মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মানিক মাহমুদ খাদ্যবান্ধব ডিলারের ম্যানেজার আরমান আলী কাগজপত্র নিয়ে আসেন। পরে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা এসে সেগুলো সঠিক বলে জানালে চাল ছেড়ে দেওয়া হয়।’
এদিকে রাত ১২টার দিকে সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহনেওয়াজ আলম ট্রাকসহ চাল গুদামে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন। যদিও পরে মধ্যরাতে চালগুলো গোপনে গুদামে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান আল নাজির বলেন, ‘দুপুরে চাল আটক করা হলেও রাতে পর্যন্ত প্রশাসনের কেউ এসে দায়িত্ব নেয়নি। অথচ পরে পুলিশ হেফাজত থেকে চাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—এটি কীভাবে সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।’
আরেক বাসিন্দা মহিউদ্দিন বেপারী বলেন, ‘দিনে আটক চাল রাতের আঁধারে কীভাবে সরানো হলো—তদন্ত হলে সব বের হয়ে আসবে।’
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘চালগুলো জব্দ করে গুদামে আনা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
/অ